জাহাজ নির্মাণ খাতের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি

দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সহায়তার লক্ষ্যে নির্ধারিত ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ব্যাংকগুলোর আবেদন করার সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সহায়তার লক্ষ্যে নির্ধারিত ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ব্যাংকগুলোর আবেদন করার সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে বিষয়টি অবহিত করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এ স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোর আবেদন করার শেষ সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) সার্কুলার লেটার নং-০৪-এ বলা হয়, ‘শিপ বিল্ডিং শিল্পের উন্নয়ন, পরিচালনা ও বিকাশে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর সময়সীমায় গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। এর আগে এ স্কিমে ব্যাংকগুলোর আবেদন জমা দেয়ার শেষ সময় ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উচ্চ সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

স্কিমের নির্দেশিকার ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের যোগ্য। পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩ (বিআরপিডি-৩)-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ স্কিমের আওতায় কোনো ঋণ অনুমোদনের আগে তহবিলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিআরপিডি-৩ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এজন্য ব্যাংককে ঋণ বিতরণ ও পরিশোধের বিস্তারিত সময়সূচি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

সার্কুলারে আরো বলা হয়, জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রাহকদের পর্যায়ক্রমে ঋণ বিতরণ করতে হবে। গ্রাহককে ঋণ বিতরণের পরই ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়নের দাবি করতে পারবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে তারল্য ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে অন্তর্বর্তী কিস্তির বিপরীতেও পুনঃঅর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এছাড়া ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী উইন্ডো থাকা প্রচলিত ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সার্কুলারের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান বিআরপিডি-৩ কর্তৃক অনুমোদিত শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে।

আরও